প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশজুড়ে বইছে নির্বাচনি হাওয়া। এই আবহে ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রসংস্কার ও ইসলামী সুশাসনের এক সমন্বিত পথনকশা তুলে ধরে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বেলা ১১টায় রাজধানীর পল্টনস্থ সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের আমির মাওলানা মামুনুল হক আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইশতেহার ঘোষণা করেন। পাঁচটি অধ্যায় এবং ২২ দফার এই ইশতেহারে ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন ও ইনসাফপূর্ণ সমাজ গড়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে।
বাংলাদেশের রাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপট বুঝতে হলে ১৯০০ সাল থেকে শুরু হওয়া দীর্ঘ আন্দোলন ও ত্যাগের ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকাতে হবে। এই অঞ্চলের মানুষের প্রতিটি অর্জনই ছিল রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের ফসল:
১৯০০ - ১৯৪৭ (ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমল): ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ এবং ১৯০৬ সালে ঢাকার আহসান মঞ্জিলে মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠা বাঙালির রাজনৈতিক সচেতনতার প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি। ১৯৪০-এর লাহোর প্রস্তাবে যে স্বতন্ত্র আবাসভূমির দাবি উঠেছিল, তা ১৯৪৭-এর দেশভাগের মাধ্যমে একটি রূপ নেয়।
১৯৪৮ - ১৯৭১ (ভাষা থেকে স্বাধীনতা): ১৯৪৮ সালে রাষ্ট্রভাষা নিয়ে জিন্নাহর সেই একরোখা ঘোষণার প্রতিবাদে ছাত্রসমাজ যে আন্দোলন শুরু করে, তা ১৯৫২-র ২১ ফেব্রুয়ারি রক্তের বিনিময়ে চূড়ান্ত রূপ পায়। ১৯৬৬-র ঐতিহাসিক ৬ দফা এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গ্রামমুখী রাজনীতি এই অঞ্চলের অর্থনীতির ভিত গড়ে দেয়।
১৯৯০ - ২০২৪ (অভ্যুত্থান ও নতুন বাংলাদেশ): ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থানে সামরিক শাসনের অবসান হলেও গত ১৬ বছরের 'ফ্যাসিবাদী' শাসন ব্যবস্থায় দেশ দুর্নীতি ও শোষণের শিকার হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব বিপ্লব বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক 'সেকেন্ড রিপাবলিক' বা দ্বিতীয় স্বাধীনতার সূর্যোদয় ঘটায়।
২০২৬ (ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন): ২০২৪-এর অভ্যুত্থানের পর ২০২৫ সাল জুড়ে চলা ব্যাপক রাষ্ট্রীয় সংস্কার শেষে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নতুন বাংলাদেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচন। এই নির্বাচনকে ঘিরে বড় দলগুলোর পাশাপাশি ইসলামী দলগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ঘোষিত ইশতেহারে ২০০৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ দুঃশাসনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে। মাওলানা মামুনুল হক বলেন, "বিগত আমলের গুম-খুন, ভোটাধিকার হরণ এবং দুর্নীতির প্রতিটি ঘটনার আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা হবে।"
ইশতেহারের উল্লেখযোগ্য বিষয়সমূহ:
৫টি অধ্যায় ও ২২ দফা: রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকট উত্তরণের একটি বিস্তারিত রোডম্যাপ।
অগ্রাধিকার কর্মসূচি: সুষম উন্নয়ন, দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্রব্যবস্থা, শক্তিশালী প্রতিরক্ষা এবং স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি।
ইসলামী আকিদা ও সংস্কৃতি: কওমি মাদ্রাসার সুরক্ষা, ইসলামি মূল্যবোধ রক্ষা এবং সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ।
অপরাধ দমনে কঠোরতা: চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, ঘুষ-দুর্নীতি এবং নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে 'শূন্য সহনশীলতা' বা জিরো টলারেন্স ঘোষণা।
তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান: তরুণদের জন্য বিশেষ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা-ধর্মী কর্মসূচি এবং মানবিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
মাওলানা মামুনুল হক তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, "রাজনীতি হবে আমানত এবং ক্ষমতা হবে জবাবদিহিমূলক।" এদিকে পটুয়াখালীর বাউফলে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান ঘোষণা করেছেন যে, ক্ষমতায় গেলে পাচার হওয়া অর্থ রাষ্ট্রীয় তহবিলে ফেরত আনা হবে। চরমোনাই পীর হাতপাখাকে 'ইনসাফের প্রতীক' হিসেবে তুলে ধরছেন। অন্যদিকে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান আজই তার ৫১ দফার ইশতেহার ঘোষণা করে 'সবার আগে বাংলাদেশ' স্লোগান দিয়েছেন। এই বহুমুখী প্রতিযোগিতার মাঝে মাওলানা মামুনুল হকের ইসলামী সুশাসনের রূপরেখা ভোটারদের মধ্যে বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করেছে।
সূত্র: বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস প্রেস রিলিজ, বাসস (BSS), আল জাজিরা এবং জাতীয় রাজনৈতিক আর্কাইভ।
বিশ্লেষণ ও প্রতিবেদন: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |